You are here
Home > বাংলাদেশ > জেলার সংবাদ > বরিশালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আড়ালে রোগী জিম্মি ও প্রতারণা

বরিশালে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আড়ালে রোগী জিম্মি ও প্রতারণা

Share

 

রাকিব শরীফ

বরিশালের মুলাদি উপজেলায় সোস্যাল ব্লাড ডোনার্স অনলাইন সংগঠনের আড়ালে সোয়েব ফরাজি চক্রের প্রতারণার অভিযোগ ও সত্যতা পাওয়া গেছে।

তথ্যমতে, এই দালাল চক্রটি বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে রোগীদের নাম্বার নিয়ে, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পেজ থেকে ডোনারদের তথ্য নিয়ে অসহায় ও মুমূর্ষু রোগীদের জিম্মি করে রক্তের ব্যবস্থা করে/ দিবে বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

হিজলা, মুলাদি ও মেহেন্দিগঞ্জ এরিয়ার গরীব ও মধ্যবিত্ত অসংখ্য রোগী মুলাদিতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। দালাল চক্ত এই সকল অসহায় ও মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে দিবে বলে কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।হাসপাতাল কেন্দ্রীক বিভিন্ন দোকানে এদের উপস্থিতি সবর।

টাকার বিনিময়ে রক্ত দেয়া এবং নেয়া গুরুতর অপরাধ, এ বিষয়ে রোগীর লোকের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীকে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়, জরুরী মুহুর্তে অনেকটা বাধ্য হয়ে তাদের চুক্তিতে রাজি হতে হয়ে। কয়েকজন রোগীর মাধ্যমে জানতে পারা যায় রোগীর শারিরীক ও আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতি ব্যাগ রক্ত ৫০০-৪০০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই দালালচক্র।

বিপ্লব দাস নামের একজন রক্তদাতা অভিযোগ করে বলেন আমার বন্ধুর এক আত্নীয়র জন্য জরুরী ভিত্তিতে ২ ব্যাগ এ পজেটিভ রক্তের প্রয়োজনে ক্লিনিক/হাসপাতাল থেকে সোয়েব ফরাজির নাম্বার পাই, পরবর্তীতে সে গাছুয়া এরিয়া থেকে একজন রক্তদাতা ব্যবস্থা করে দেয়। রক্তদান শেষে তিনি গাড়ি ভাড়া ও আপ্যায়ন খরচ ৪০০ টাকা দাবি করলে আমর বন্ধু ঢাকা থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে জানতে পারি, রোগীর সাথে উপস্থিত আত্নীয়দের থেকে চক্রটি একই উপায়ে ৫০০ টাকা নিয়েছে।

রোমেন খান নামক একজন নিয়মিত রক্তদাতা বলেন, আমি উক্ত ব্যক্তির রেফারেন্সে পাশের থানা হিজলাতে এক মুমূর্ষু গরিব রোগীকে একব্যাগ রক্ত দান করি। রক্তদান করে বাড়িতে আসার পরে রোগীর লোকের মাধ্যমে জানতে পাড়ি আমার কথা বলে গাড়িভাড়া ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয় যা আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও বিব্রত কর। অথচ আমি অসংখ্য বার রক্তদান করেছি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও নিঃস্বার্থভাবে।

রায়হান মল্লিক নামক স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী জানান, এই দালাল চক্রের প্রধান সোয়েব ফরাজি অতীতকালে স্থানীয় সংগঠন থেকে সেবা প্রাপ্ত কয়েকজন রোগীর আত্নীয়দের থেকে ফোনে রিচার্জ চেয়েছে। আমরা জানতে পেরে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেই। পরবর্তীতে এই দালাল বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হয়ে বরিশাল, ঢাকাসহ দেশব্যাপী প্রতারণা চালিয়ে আসছে।

সরজমিনে মুলাদির কোথাও সোস্যাল ব্লাড ডোনার্স সংগঠন নামে কোন সংগঠন খুঁজে পাওয়া যায় নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন দিলে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচয়ে নিহার দাস নামক এক ব্যক্তি জানায়, বরিশালে আমাদের কোন শাখা সংগঠন নেই, শুধুমাত্র আমরা অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করি। যদি আমাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ এমন প্রতারনা করে থাকে তাহলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

প্রতারনার শিকার অসংখ্য রোগী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানান।

Leave a Reply

Top