You are here
Home > বাংলাদেশ > জেলার সংবাদ > সরাইলে পুলিশ পরিচয়ে খামারে ডাকাতি, জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ

সরাইলে পুলিশ পরিচয়ে খামারে ডাকাতি, জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ

Share

 

এম মনসুর আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।। সরাইলে পুলিশ পরিচয়ে আসামি তল্লাশির নাম করে এক খামারির হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ১২’শ হাঁস লুট করে নিয়ে যায় একদল ডাকাত। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামে তিতাস নদীর তীরে অবিস্থত বাচ্চ‍ু মিয়ার খামারে শুক্রবার দিনগত রাত ১১টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামকে (৪০) আটক করা হয়েছে।

ডাকাত দলের হামলার শিকার বাচ্চ‍ু মিয়ার বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের গুজিয়াখাইল গ্রামে। বাচ্চ‍ু মিয়া জানান, শুক্রবার রাতে খামারের পাশের ঢেরায় তিনিসহ দুজন ঘুমিয়ে পড়েন। নৌকাযোগে ১০/১২ জন লোক এসে নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর তারা খামারে থাকা ১২’শ আটটি হাঁস, ডিম বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা, একটি সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি গ্যাসের চুলা লুট করে নিয়ে যায়।

বাচ্চ‍ু মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরদিন শনিবার সকালে অরুয়াইল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে মেঘনা নদীর পাড়ে কিছু মৃত হাঁস পড়ে আছে জানতে পেরে তিনি সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পান। তিনি মেঘনার তীর ও রাজাপুর গ্রামের এখানে-সেখানে মৃত হাঁস পড়ে থাকতে দেখে এগুলো সংগ্রহ করে জড়ো করেন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত তিনি প্রায় তিন’শ মৃত হাঁস সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে ওই গ্রামের একটি খামারে গিয়ে তার বাকি হাঁসগুলোর সন্ধান পান। ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে রাজাপুর গ্রামের শফিকুলসহ তার তিন ভাই জড়িত জানতে পেরে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ শনিবার সন্ধ্যার দিকে ওই গ্রামে গিয়ে শফিকুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বাচ্চ‍ু মিয়া জানান, ‘পাঁচ বছর আগে তিনি বারপাইকা গ্রামে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন। গত তিন মাস ধরে তার খামারে প্রায় পাঁচ’শ হাঁস ডিম দিচ্ছে। লুট হয়ে যাওয়া হাঁসগুলোর বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা জানিয়ে তিনি বলেন, ”আমার হাঁসগুলো উদ্ধার না করলে আমি পথে বইস্যা যামু।”

অরুয়াইল বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৭ মার্চ হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক কর্তৃক অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় থানার পরিদর্শকসহ ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পর ওই ফাঁড়ির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকে মূলত ওই এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে গেছে। ঈদের আগের দিন অরুয়াইল বাজারের একটি দোকানে ও মেঘনা নদীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

বাজারের একাধিক নৈশ প্রহরী জানান, ১২০০ রকমারি দোকান সমৃদ্ধ বিশাল আয়তনের এই বাজারটিতে সন্ধ্যার পর নামে শ্মশানের নীরবতা। এ অবস্থায় ফাঁড়িতে পুলিশ না থাকায় নিরস্ত্র প্রহরীরা এখন দুর্বল হয়ে পড়েছেন। একসময় দোকান মালিকরা লাখ টাকার মালামাল দোকানে রেখে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি যেতেন। আর এখন চুরি-ডাকাতির ভয়ে তারা নির্ঘুম রাত কাটান।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘খামার মালিকের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামকে আটক করে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পক্ষ থেকে এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

১৬ মে, ২০২২

Leave a Reply

Top