You are here
Home > বাংলাদেশ > জেলার সংবাদ > যুদ্ধ করে ও মুক্তিযুদ্ধের খাতায় নাম মেলেনি কুষ্টিয়ার মোজাম শেখের

যুদ্ধ করে ও মুক্তিযুদ্ধের খাতায় নাম মেলেনি কুষ্টিয়ার মোজাম শেখের

Share

যুদ্ধ চলাকালীন সময় ২২ নভেম্বর কাকিলাদহ নামক স্থানে যুদ্ধ করতে গিয়ে মোজাম শেখের শরীরে পাকহানাদার বাহিনীর গুলি লাগে, সেই গুলি লাগার ক্ষতচিহ্ন এখনো মোজাম শেখের শরীরে স্পষ্ট রয়েছে, এখনো মাঝে মাঝে সেই ক্ষত স্থানে অসহ্য যন্ত্রণা করে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে পার হলেও আজো বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি কুষ্টিয়ার মোজাম শেখ। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে যুদ্ধে নেমেছিল কুষ্টিয়ার মোজাম শেখ তবে যুদ্ধ পরবর্তীতে বিভিন্ন মহল ও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বৃদ্ধ হলেও মুক্তিযোদ্ধার কার্ড ও অসম্মানী মেলেনি মোজাম শেখের।

মোজাম শেখ জানান দেশ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিলাম, নিজের জীবন নিয়ে কখনো ভাবিনি, তবে কোথায় আজকে আমার সে সম্মানটুকু কে দেখবে আমার এই অসহায়ত্ব কার কাছে গেলে মিলবে আমার এই সমাধান। আমি বিভিন্ন মহল ও দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে আজ ক্লান্ত। মৃত্যুর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শেষ সম্মানটুকু পাব কিনা সেটা নিয়েই এখন সংশয়

তরতাজা যুবক থাকাকালীন সময়ে দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করা সেই মোজাম শেখের বয়সে ছাপ পড়েছে, হয়েছে বৃদ্ধ। তবে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সেই প্রাপ্য সম্মানটুকু আজও পায়নি তিনি। অসহায় ও দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে কোনরকম খেয়ে না খেয়ে জীবন পার করতে থাকে মোজাম শেখ, তবে এখন বৃদ্ধ হয়েছে চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে,পারেনা কোন কাজ করতে তাই বাধ্য হয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাওজিং এ মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছে মোজাম শেখ ও তার স্ত্রী। কিন্তু কবে মিলবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু সেই অপেক্ষায় প্রতিনিয়ত প্রহর গুনে সময় পার করছেন মোজাম শেখ।

স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাকার রাজপথ। সাতই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের পর পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও অগ্নিগর্ভ। ২৫ মার্চ কালরাতে এদেশের মাটিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, সেটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংসতম গণহত্যা। মূক্তিযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসন-শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতিকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Top