You are here
Home > বাংলাদেশ > জেলার সংবাদ > গরীবের বন্ধু এডভোকেট উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী

গরীবের বন্ধু এডভোকেট উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী

Share

এম মনসুর আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের আইনজীবী উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের আইনজীবী তিনি। অন্য অধিকাংশ নারীর মতো তিনিও পারতেন গৃহিনী হিসেবে পরিবারকে সময় দিতে। কিন্তু শুধু নিজের পায়ে দাঁড়াবেন বলে আইন পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মেয়ে উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী। স্বামীর চাকরির সুবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এসে এখানকার মানুষকে আপন করে নিয়েছেন। তাই পদোন্নতি পেয়ে স্বামী অন্যত্র চলে গেলেও সন্তানদের নিয়ে মৌসুমী রয়ে গেছেন এ জেলাতেই। মানুষের বিপদে আপদে হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। বিশেষ করে করোনার মহামারীতে নারী নেতৃত্বে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। তার মানবিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যায়নি। ভিন্ন জেলার মেয়ে হয়েও মানবিক কাজে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

পিতা-মাতার সরকারি চাকুরী সুবাধে চট্রগ্রামের পাহাড়তলীতে জন্ম উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমীর। সেখানেই বেড়ে উঠা। তিন বোনের মধ্যে মৌসুমীই সবার বড়। পড়াশোনার শুরু চট্রগ্রামের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের মাধ্যমে। মাধ্যমিকে পড়াশোনা শেষে উচ্চ মাধ্যমিকে সেন্ট স্কলাস্টিকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ১ম স্থান অর্জন করেন। ২০০১সালে চট্রগ্রাম কলেজ থেকে তিনি প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। মৌসুমী চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে এলএলবি অনার্স ও এলএলএম অর্জন করেন। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী। সে সময় চট্রগ্রামের প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন তিনি। তৎকালীন সময় চট্রগ্রাম বিশবিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের আধিপত্য ছিল। প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শে ২০০৭ সাল থেকেই চট্রগ্রাম জেলা জজ আদালতে আইন পেশায় প্রেকটিস শুরু করেন তিনি। এবছরই তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উপসচিব) মোহাম্মদ শামসুজ্জামানের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়ার পরও তিনি বসে থাকেননি। ২০০৮ সালে আইনজীবী হিসেবে চট্রগ্রামের নিম্ন আদালতে সনদ লাভ করেন। ২০০৯ সালে অ্যাডভোকেট মৌসুমী প্রথম ছেলে সন্তানের মা হন। কিন্তু দুই বছর যাওয়ার পর বুঝতে পারেন তার ছেলেটির হাইপার অ্যাক্টিভে ভোগছেন। তারপরও তিনি তার কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। মৌসমী চট্রগ্রামে কর আইনজীবী সমিতির সদস্য, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি চট্রগ্রাম আদালতে আইন পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। এরআগে ২০১৫ সালে মৌসুমী হাইকোর্ট এর হাইকোর্ট ডিভিশনের আইনজীবী হিসেবে সনদ ভুক্ত হন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ লাভ করেন।

২০১৭ সালে তার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ায় মৌসুমীকেও সন্তানসহ আসতে হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এসেও বসে থাকেননি তিনি। চট্রগ্রামের আইনজীবী সমিতির সদস্যের পাশাপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ লাভ করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লিগ্যাল এইড প্যানেলের আইনজীবী হিসেবে আছেন। এছাড়াও তিনি নিজে গড়ে তুলেন জাগরণী সংঘ নামের একটি সংগঠন। এডভোকেট মৌসুমী সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহ-সভাপতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা, প্রতিবন্ধীদের সংগঠন ড্রিম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পদে আছেন।

বিশেষ করে ২০২০ সালে মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের মহামারীতে অ্যাডভোকেট উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমী সুবিধা বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করোনার প্রথম থেকেই জেলার ৮টি উপজেলায় মাক্স, সাবান,সেনিটাইজার ও খাদ্যপন্য সরবরাহ করেছেন নিজ উদ্যোগে। অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী। উপজেলা গুলোতে নিজস্ব লোকজন ও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী, মাক্স, সেনিটাইজার ও অর্থ সহায়তা। করোনা মহামারীতে অসহায় পরিবার যেন আনন্দ বঞ্চিত না হয় নিজের সাধ্যমতো বাড়িতে পৌছে দিয়েছেন ঈদের খাদ্যসামগ্রী ও শিশুদের দিয়েছেন নতুন কাপড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেয়ে না হয়েও একজন নারী হয়ে এই জেলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবার নজর কেড়েছেন তিনি।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মেয়ে না হয়েও কেন এই জেলার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, এই প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট বলেন, এই জেলার মানুষের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। আমার স্বামী ২০১৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। কিন্তু এখানের মানুষের ভালবাসার টানে আমি দুই সন্তান নিয়ে এই এখানেই রয়ে গেছি। তাই এখানের মানুষেরও দাবি আছে আমার প্রতি, তাই আমার ব্যক্তিগত আয়ে যতটুকু পারি তা দিয়ে সাধ্যমতো শুধু মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। যদি আমার এই সামান্য সহায়তায় একজন মানুষের নূন্যতম উপকারে তাতেই আমার স্বার্থকতা।

এডভোকেট উম্মে শবনম মুস্তারী মৌসুমীর আর্থিক অনুদানে সরাইল হাওরাঞ্চলের অনেক গরীব রোগী চিকিৎসা পেয়েছে এবং অনেক অসহায় নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। অনেকেই তাঁকে গরীবের বন্ধু বলে ডাকেন।

Leave a Reply

Top