You are here
Home > বাংলাদেশ > জেলার সংবাদ > জয়পুরহাটে বেড়ে গেছে ডায়রিয়ার প্রকোপঃ দুই মাসে শিশুসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ আক্রান্ত

জয়পুরহাটে বেড়ে গেছে ডায়রিয়ার প্রকোপঃ দুই মাসে শিশুসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ আক্রান্ত

Share

জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ ৪ মার্চ,২১

মৌসুমি ভাইরাস জনিত কারনে জয়পুরহাটে বেড়ে গেছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। কেবল মাত্র আধুনিক জেলা হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজার। এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালগুলোর বারান্দায় বেড দিয়ে এমন কি মেঝেতেও ।

এখনো শীতের প্রভাব কাটেনি উত্তরাঞ্চলের জেলা জয়পুরহাটে। সকাল ১০ থেকে বিকেল পর্যন্ত কিছুটা আরাম দায়ক উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবারো চির চেনা শীতের ধকল। আর এমন শীত জনিত কারনে জয়পুরহাটে বৃদ্ধি পেয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। জেলা আধুনিক হাসপাতাল সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুলোতে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার রোগী, যাদের মধ্যে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যায় বেশী।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, প্রতিটি শিশু বমি, পাতলা পায়খানা আর পেটের ব্যথায় ভুগছে । ডায়রিয়ার জন্য শুধু জেলা আধুনিক হাসপাতালে আলাদা ২৫ শয্যা থাকলেও থাকলেও গড়ে প্রতিদিন সেখানে রোগী ভর্তি হচ্ছেন ৬০ জন রোগী। ফলে বেডের সংকুলান না হওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে মেঝেতেই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। এমন বিপুল সংখ্যক ডায়রিয়াই আক্রান্ত রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের কর্মচারীদের ।

নওগাঁর বদলগাছি উপজেলা থেকে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তি তার ভাগ্নেকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। তিনি জানান, হঠাৎ করে জ্বর-সর্দি ও কাশি হওয়ার পর পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বাড়িতে কোনো সমাধান না হওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছে।
জয়পুরহাট সদরের চকশ্যাম গ্রাম থেকে আসা আশা বেগম জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তার স্বামীকে বাড়িতে রেখে দু’দিন চিকিৎসা দেয়ার পর কোনো কাজ না হওয়ায় অবশেষে হাসপাতালে তারা এসেছেন। এখানেই তিনদিন ধরে চিকিৎসা চলছে তার।
জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ইনচার্জ নাসিমা সুলতানা বলেন, হাসপাতালে মাত্র ৮ শয্যার একটি ডায়রিয়া ওয়ার্ড থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগীর স্থান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই সঙ্গে জনবল কম এবং রোগী বেশি হওয়ায় দায়িত্বরত নার্সদের অনেকটাই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. খন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ধারণা করছি ভাইরাস জনিত কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। আমরা সবাইকে বলতে চাই ডায়রিয়া হলেই অ্যান্টিবায়েটিক খেতে হবে এমনটা ঠিক না। পাতলা পায়খানা হলে বেশি করে স্যালাইন খাবেন। এরপরও যদি ঠিক না হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

মোঃ সোহেল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
০১৯০৭-৪৮১৮৬৫

Leave a Reply

Top