You are here
Home > বাংলাদেশ > দেখতে নায়িকাদের মতো হলেও প্রধান কাজ প্রতারণা

দেখতে নায়িকাদের মতো হলেও প্রধান কাজ প্রতারণা

Share

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন পেশার মানুষকে নানা প্রলোভনে বাসায় ডেকে এনে প্রতারনার মাধ্যমে জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থ দাবি। কখনও অনৈতিক সম্পর্কের প্রলোভন, কখনও আবার কাজের বাহানা। দীর্ঘদিন যাবৎ কুষ্টিয়ায় বেশ কয়েকটি প্রতারক চক্র এভাবেই প্রতারনা করে আসছিল। প্রতারনা করতে নিজেরাই সেজে যেত পুলিশ কর্মকর্তা আবার কখনও সাংবাদিক। পরিচয় পাকাপোক্ত করতে ব্যবহার করা হতো ক্যামেরা ও নকল পিস্তল সাদৃশ্য জিনিসপত্র। এমনই এক প্রতারক চক্রের জাল ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের এস আই মো: সাহেব আলী ও এ এস আই মো: আসাদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করেছে। প্রতারক চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ইকবাল হোসেন (২৬) ও কামাল হোসেন (২০) দুই যুবককে।

আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলেন, কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার মশান এলাকার মোঃ তমছের আলীর মেয়ে মোছাঃ তানিয়া খাতুন (২৫), কুষ্টিয়া শহরের থানা পাড়া এলাকার মোঃ শহিদুলের স্ত্রী মোছাঃ সালমা বেগম (৩০), বারখাদা ত্রিমোহনী পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশের এলাকার মোঃ আনছার আলী পিয়াদার মেয়ে মোছাঃ বেবী খাতুন (৩৫) ও ভুয়া পুলিশ পরিচয়দানকারী বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকার আতোর আলী শেখের ছেলে মোঃ শাহারুল ইসলাম (৩০)। পুলিশের দাবী মহিলা তিনজন দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তাদের সহায়তাকারী পুরুষ নিজেকে পুলিশের এসআই হিসাবে পরিচয় দিয়ে দীর্ধদিন যাবৎ এ ধরনের প্রতারনা করে আসছিল।

জানা যায়, গত ৮ ফেব্র“য়ারী কাজের কথা বলে প্রতারক চক্রের সদস্য তানিয়া খতুন (২৫) কুষ্টিয়া শহরের বারো শরীফ দরবারের পাশে বাড়ীর কাজ করার কথা বলে ইকবাল হোসেন (২৬) ও কামাল হোসেন (২০) কে বাসায় ডেকে নেয়। বাসায় যাবার কিছুক্ষন পরেই পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে শাহারুল ইসলাম ও সাংবাদিক পরিচয় দেয়া আমির হোসেন ঐ বাসায় প্রবেশ করে। এরপরই শুরু হয় বিভিন্নভাবে অত্যাচার। মুক্তিপন হিসাবে তাদের কাছে চাওয়া হয় ৩ লাখ টাকা। আটক থাকা ইকবাল মুক্তিপেতে টাকার জন্য পরিবারকে ফোন দেয়। পরিবার বিষয়টি পুলিশের কাছে অবহিত করে। অভিযানে নামে পুলিশ। আটক করা হয় প্রতারক চক্রের ৩ মহিলা সদস্যসহ ৪ জনকে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতারক চক্রের ৪ সদস্যকে আটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শহরে এই ধরনের যতগুলো সিন্ডিকেট সক্রিয় আছে তাদেরকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Top