You are here
Home > বাংলাদেশ > হিজড়া জনগোষ্ঠীতে যায় দিন খারাপ তো, আসে দিন আরও খারাপ অবস্থা।

হিজড়া জনগোষ্ঠীতে যায় দিন খারাপ তো, আসে দিন আরও খারাপ অবস্থা।

Share

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আল আজাদ ওরফে মনিষা মীম নিপুণ হিজড়া। একজন সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন এনজিওতে। তাছাড়া, তিনি হিজড়া ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একজন মানুষ। তাদের জনগোষ্ঠীতে যায় দিন খারাপ তো, আসে দিন আরও খারাপ অবস্থা।

করোনা মহামারীতে পুরো বিশ্বের পাশাপাশি যখন সারা বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষিত হয়, তখন সাধারণ জনগণের পাশাপাশি হিজড়া ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর জীবনে আরো করুণ অবস্থা নেমে আসে। নিপুন হিজড়া যেহেতু এই কমিউনিটিরই একজন, তাই হিজড়া ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর অনেকেই তাদের করুণ ও ভয়াবহ অবস্থার কথা বলার জন্য লিডার হিসেবে তার স্মরণাপন্ন হতে থাকে। সেই মুহূর্তে আবেগপ্রবণ হয়ে আমি চট্টগ্রামের জনপ্রিয় এক ফেসবুক গ্রুপ (ডিসপারেটলি সিকিং চট্টগ্রাম) পোস্ট দিয়ে তাদের এই জনগোষ্ঠীর নিদারুণ অবস্থা তুলে ধরেন। একরাতেই সেই পোস্টটিতে ৩৯০০টি++ লাইক-রিএক্ট, ১১৭টি কমেন্ট পড়ে এবং পোস্টটি ৪৪ বার শেয়ার হয়। পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি নিপুনের কাছে চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত স্থানীয় ১৪টি বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন, ৭ জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তরুন চেঞ্জমেকাররা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। নিপুন হিজড়া এইসব সংগঠন ও ব্যক্তিদের বদান্যতায় নিজস্ব তৎপরতায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ৪১ টি ওয়ার্ডের ৯৪টি এলাকার ১১১২ জন হিজড়া ও লৈঙ্গিক বৈচিত্র্যময় ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং বিধবা নারীদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেই। সব প্রজেক্ট মিলিয়ে নিপুন এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত মোট ০৭ মাসের বেশি সময় ধরে সেচ্ছায় মানবসেবায় কাজ করে গিয়েছে। এইসব সংস্থা, সংগঠন ও ব্যক্তিরা যে যেভাবে তাদের সাহায্য-সহায়তা করেছেন তা নিম্নরূপ: বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির “ফান্ড রিকুয়েষ্ট” প্রজেক্ট পক্ষ হতে ৯১ জনকে ত্রান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের “ইপিআর” প্রজেক্ট পক্ষ হতে ৫৯ জনকে ৭৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা এবং ২৪১ জনকে খাদ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, শিখর সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ২৫ জনকে ত্রান সহায়তা, লিও ক্লাব চট্টগ্রাম অব বেঙ্গল সিটির পক্ষ থেকে ১৫ জনকে ত্রান সহায়তা, যাত্রী ছাউনি ও সৈয়দ আহমেদ উল্লাহ আবিরের পক্ষ থেকে ২৫ জনকে ত্রান সহায়তা, স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ০৬ জনকে ত্রান সহায়তা, কিছু মুখের হাসি সংগঠনের পক্ষ থেকে ০৬ জনকে ত্রান সহায়তা, ৩২ ইন্জিঃ কনঃ বিগ্রেডের পক্ষ থেকে ১৫০ জনকে ঈদবাজার ও ত্রান সহায়তা, সেনা কল্যাণ সংস্থা ও সাবেক ডিজিএম মোঃ ইকবাল হোসেনের পক্ষ থেকে ১০০ জনকে ত্রান সহায়তা, অনেস্ট গ্রুপ, অপু মনিরুল, দিদারুল ইসলাম ও সেলিনা সেলির যৌথ উদ্যোগে ৪০ জনকে ১০০০ টাকা করে আর্থিক ও ত্রান সহায়তা, অগ্রগ্রাহী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২৫ জনকে ত্রান সহায়তা, গ্লোবাল ফান্ড, আইসিসিডিআরবি ও জামার্ন ডক্টরস গ্রপের পক্ষ থেকে  ১১৩ জনকে ত্রান সহায়তা, জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম  ও এডিসি আব্দুর রউফের পক্ষ থেকে ১০০ জনকে ত্রান সহায়তা, ৮ নং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোরশেদ আলম পক্ষ থেকে ৪০ জনকে ত্রান সহায়তা, তাসুনভা আনান ও মোকসেদুর রহমানের পক্ষ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬৬ জনকে ত্রান সহায়তা, প্রবাসী রিসান মাহমুদ, মাহমুদ হাসান, ফয়সাল চৌধুরী ও আকরাম চৌধুরীর আর্থিক সহযোগিতায় ১০ জনকে ত্রান সহায়তা। তিনি একটি ওয়েবিনার ইন্টারভিউতে আবেগপ্রবণ হয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন যারা করোনা মহামারী সময়ে নিপুন ও তার জনগোষ্ঠীর সাহায্য করেছেন। তিনি সেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজেকে সেরা প্রমাণিত করেছেন।

Top