মোংলায় দায়িত্ব অবহেলায় ৬ শিক্ষককে শোকজ,কর্মকর্তা প্রত্যাহার

তামান্না আলম তন্বী, বাগেরহাট প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:07 PM, 06 January 2021

Share

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশ ব্যাপী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরন হলেও বাগেরহাটের মোংলায় একটি সরকারী প্রাথমিক স্কুলে বই না পেয়ে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শিক্ষকদের অবহেলা-অযত্নে বই স্কুলের বারান্দায় পড়ে থাকায় রাতের অন্ধকারে কে বা কারা সরকারী বই লুট করে নিয়ে যায়। বছর শুরুর প্রথমে বই না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ছাত্র ও অভিভাবকেরা। এ ঘটনা শুনে উপজেলা প্রশাসন অন্যত্র থেকে এনে দ্রুত বই বিতরন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এব্যাপারে ওই স্কুলের নৈশপ্রহরী সহ ৬ শিক্ষককে শোকজ করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। এছাড়া, ওই স্কুলের বই বিতরনের সাথে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান মোড়লকে কারন দর্শানো নোটিশসহ সদর ক্লাষ্টার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগনকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষে এবং শিক্ষাখাতকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিনই বই তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এ কথাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে বছরের প্রথম দিনই শিশু কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়ার কড়া নির্দেশনা থাকে প্রধানমন্ত্রীর। তাই প্রতি বছরের ন্যায় ২০২১ সালে ১ জানুয়ারী বছরের প্রথম দিন-এক যোগে মোংলা উপরে সকল স্কুলে বই বিতরন শুরু হয়।

এ বছরে ৭১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য স্কুল মিলে প্রায় ১২৫টি স্কুলের বই বিতরন করা হয় পৌর শহরের দিগন্ত প্রকল্প সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। কিন্ত সকল স্কুলের বই সঠিক সময় বিতরন করলেও দিগন্ত স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের বই পড়ে থাকে বিদ্যালয়ের বারান্দায়। শিক্ষার্থীরা বই নিতে আসলে নতুন বছরের বই না পেয়ে বাড়ী ফিরে যায়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে দ্রুত স্কুলে গিয়ে পুনরায় নতুন বই নিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে তা বিতরন করে বলে জানায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শুমন্ত পোদ্দার।

এব্যাপারে সরকারী স্কুলের বারান্দায় অযত্নে-অবহেলায় পরে থাকা বই লুট হওয়া ও সরকারের দেয়া নির্দেশনা অমান্য করে বছরের প্রথম দিন স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে বই তুলে দেয়ার দায়িত্বে অবহেলার কারনে দিগন্ত প্রকল্প সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী জাহিদুল ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিল আফরোজ রনোক, পারভিন আক্তার, কনিকা মন্ডল, অত্রি হালদার তুলি, আফরোজা খানম ও ছাদিয়া আফরিন এ ৬ শিক্ষককে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।

পাশাপাশি পৌরসভা, চাদঁপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের (সদর ক্লাষ্টর) সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান দায়িত্ব থাকাকালীন সময় শিক্ষীকাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বহু অভিযোগ থাকায় এবং এবছরের দিগন্ত স্কুলের বই বিতরনে ক্লাষ্টার অফিসারের দায়িত্ব থাকার পরেও দায়িত্ব পালন না করায় তাকে কারন দর্শানো নোটিশসহ সদর ক্লাষ্টার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অন্যান্য অভিযোগের কথা অস্বীকার করলেও অভিযুক্ত মোংলা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (সদর ক্লাষ্টার) শাহিনুর রহমান মোড়ল বই বিতরনে অবহেলার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বছরের বই বিতরনে শুধু আমি ছাড়াও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা গুরুদাশ বিশ্বাসও জড়িত ছিল। তবে সকল বই ওই স্কুলের শিক্ষকদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা অবহেলা করে নিয়ন্ত্রনে না রাখায় এ সমস্যা দেখা দেয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শুমন্ত পোদ্দার জানান, শিক্ষকদের অবহেলায় দিগন্ত স্কুলে বই বিতরনে সমস্যা দেখা দেয়ার খবর শোনার সাথে সাথে স্কুলে গিয়ে অন্যাত্র থেকে নিয়ে নতুন বছরের বই ছাত্র/ছাত্রীর হাতে তুলে দেয়া হয়। বই ফেলে রাখা আর অবহেলার কারনে নৈশ প্রহরী ও স্কুলের ৬ শিক্ষককে কারন দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান মোড়লকে জবাব চেয়ে চিঠি ও সদর ক্লাষ্টার থেকে প্রত্যাহার করে সুন্দরবন ক্লাষ্টারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানায় শিক্ষা কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :