You are here
Home > বাংলাদেশ > বাগেরহাটের সুপারির চাহিদা তুঙ্গে, কমেছে উৎপাদন

বাগেরহাটের সুপারির চাহিদা তুঙ্গে, কমেছে উৎপাদন

Share

বাগেরহাটের সুপারীর চাহিদা সব জেলায়ই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ সুপারীকে ঘিরে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা যেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে এ অঞ্চলের মানুষের উপার্জনের একটি বড় সহযোগীতা কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে উৎপাদন কমেগেছে। এক সময়ে অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি পরিবারের যে সুপারী উৎপাদন হতো তা দিয়ে পরিবারের মাঝে অনেক খরচের যোগান হতো। এছাড়া শিশু,তরুন,যুবকেরা সুপারী বিক্রি করে বিনোদন, খেলাধুলা, বনভোজন, নতুন কাপড় সহ নানা আয়োজন দেখা যেতো। এখন দেশে সুপারীর চাহিদা ব্যাপক থাকলেও বর্তমানে কমেগেছে তার উৎপাদন। এরফলে সেই সব আয়োজন আর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। এক সময়ে আশ্বিন মাস থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ এ এলাকার মানুষের সাথে যৌথ ভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাগেরহাটের কচুয়ায় এসে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলতো।

লোনা পানি ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে এবছর উৎপাদন কম হওয়ায় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সুপারির দাম বেড়েছে। প্রতি কুড়ি (২৩১টি) সুপারি পাঁচশ থেকে সাতশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কচুয়া উপজেলায় এক হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪ হাজার ১১৪ মেট্রিকটন সুপারি উৎপাদিত হয় ।

উপজেলার মুলত দুইটি হাটে বর্তমানে অধিক পরিমান সুপারী বেচা বিক্রি হয়ে তাকে। সপ্তাহের সোমও বৃহস্পতিবার কচুয়ার হাট এবং রবি ও বৃহস্পতিবার বাধালের হাট। প্রতি সপ্তাহে দুইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ দুটি বাজারে জমজমাট সুপারির হাট বসে । আকার ভেদে প্রতি কুড়ি সুপারি বিক্রি হয় পাঁচশ থেকে সাতশ টাকায়। প্রায় কোটি টাকার সুপারি কেনা-বেচা হয় এ হাট গুলোতে। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায় কচুয়া উপজেলার সুপারি। এ সুপারি বিভিন্ন জেলায় বাগেরহাটের সুপারি নামে সুনামের সাথে পরিচিতি লাভ করেছে ।

আম্পানের প্রভাবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন আরো কম হওয়ায় এবার সুপারির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে কৃষকের শঙ্কাও। জলাবদ্ধতা ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই উৎপাদন কমছে।

কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সুপারি বিক্রেতা বলেন, আম্পানের কারণে সুপারির ফুল পড়ে যাওয়ায় এবার উৎপাদন কম হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোন সহযোগীতা পাচ্ছেনা এলাকার মানুষ।

কচুয়া ও বাধালের কয়েকশ শ্রমিক পরিবার এই খাতের উপর নির্র্ভরশীল। সুপারি শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা সুপারি বাছাই করে প্রতি কুড়ি সুপারি বস্তা বন্দি করি। এক কুড়ি সুপারি বস্তাবন্দি করলে পাঁচ টাকা পাই। সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। ওই দিন আমরা ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করি। প্রতি হাটে ১৩ শ থেকে ১৪ শ টাকা আয় হয়। এই টাকায় আমাদের সংসার চলে।এবার উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও বাজার ভালো।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লাভলী খাতুন বলেন, কচুয়ায় ১৮ হাজার কৃষক সুপারি চাষে সম্পৃক্ত। ঝড় ও লবণাক্ততার জন্য প্রতি বছর উৎপাদন কমেছে। লবনাক্ততা ঠেকাতে কার্যকর সুইচ গেটের করা হলে লবণাক্ততা কমে যাবে এবং উৎপাদন বেড়ে যাবে। উৎপাদন বাড়াতে, লবনাক্ততা ঠেকাতে, নদীর লবণ পানি প্রবাহ আটকাতে সরকারের সহযোগীতা কামনা করেছেন বাগেরহাটের সাধারন মানুষ।

Top