শিশির ভেজায় শিউলি ফুলের “সৌরভ “

রাকিব শরীফ, জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:28 PM, 19 December 2020

Share

শিশিরে ভেজা শিউলি ফুলকে আমরা মোটামুটি সবাই চিনি। এই ফুল দুই রঙের সংমিশ্রণে তৈরি হয় সাদা ও কমলা রঙের সমন্বয়ে গঠিত। এই ফুল চিনিবার উপায় হলো সাদা পাপড়ি ও কমলা রঙের নলাকৃতির মত বৃন্ত। এটি ছোট আকৃতির হয়ে থাকে এবং তার সুবাস ছড়ায়।

শিউলি ফুলের পরিচিতিঃ এটি সর্বপ্রথম থাইল্যান্ডের রাষ্টীয় ফুল হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকে, তারপর এশিয়ার অনেক দেশেই এই ফুল সম্পর্কে অবগত হয়ে থাকে। এটি সাধারণত রাতে ফুটে, সকালে ঝরে যায়। তার চিত্র আমরা শিউলি গাছের তলায় গেলেই দেখতে পাই। এ যেন শিউলি ফুলের ছড়াছড়ি, শিশিরে ভেজা মাটি ও ঘাসে শিউলি ফুলের স্তুপ। এমন দৃশ্যমান চিত্রে চোখ যেন ফেরানো যায় না। দৃষ্টি গোচর হয়ে থাকে ফুলগুলো। ফুটান্ত ফুলগুলোর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকতে এক প্রশান্তি কাজ করে।

কিশোর-কিশোরী গ্রাম – অঞ্চলে সকালে কিশোর -কিশোরীরা হাতে ঝুড়ি নিয়ে আসে, শিউলি ফুল কুড়ানোর উদ্দেশ্যে। এই ফুল গুলো দিয়ে মালা গেথে খেলা করাই তাদের কাজ,কিন্তু শহরমুখী বাচ্চাগুলোর গল্পটা অন্যরকম, আমরা সাধারনত ধানমন্ডি, শাহবাগ, বিভিন্ন পার্ক,রাস্তায় দেখে থাকি,ছোট-ছোট বাচ্চাদের শিউলি ফুলের মালা বিক্রি করতে, জীবিকার তাগিদে ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে যায় শিউলি ফুলের সন্ধানে, শিউলি ফুলের মালা বিক্রি মাধ্যমে আহারে ব্যাবস্থা করে,
ফুল অতি সহজেই আকৃষ্ট করে আমাদের মনকে। আমরা অনেকেই শিউলি ফুল কুড়িয়ে ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখতে পছন্দ করি।

এই ফুল দিয়ে ভালবাসা বিনিময় ও হয়ে থাকে। আমরা প্রায় দেখে থাকি শত শত তরুন- তরুনীরা পার্কে ভ্রমণ করতে এসে ছোট বাচ্চাগুলোর থেকে শিউলি ফুলের মালা কিনে, তার প্রিয় মানুষটাকে দিয়ে থাকে। প্রিয় মানুষটি ও সাধরে গ্রহণ করে, আবার অনেকেই আছেন যারা কিনা মাথায় শিউলি ফুলের মালায় খোপা বেঁধে, শাড়ি পরে প্রিয় মানুষটির সাথে ঘুরে বেরাতে পছন্দ করে। কেউ বা ছবি তোলায় ব্যস্ত। আমরা সাধারনত শিউলি ফুলকে শরতের রাণী বলে থাকি। শরতকালেই আমরা শিউলি ফুল বেশি দেখে থাকি। যার সুবাসে আকড়ে ধরে আমাদের অন্তস্তল। শিউলি ফুল শুধু সুবাসের মাধ্যমেই মগ্ধ করেন না, তার গাছের পাতায় আছে এক জাদুকরী ভূমিকা যা মানুষের রোগের উপশম করে। এই গাছের পাতা দিয়ে অনেক রোগের ঔষুধ হিসেবে কাজ করে। এই ফুলের নির্যাশ দিয়ে আমরা মাথার তৈল পেয়ে থাকি। এই ফুলের সুন্দর্য্য ও কার্যকরিতা হয়তো বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এই ফুলকে উৎসর্গ করে আমরা নানাবিধ কাজ সম্পাদন করে থাকি।

নামঃ মারজাহান।
শিক্ষার্থী : ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিক।

আপনার মতামত লিখুন :