ব্যাডমিন্টন খেলার লাইট লাগাতে গিয়ে কিশোরের মৃত্যু

আব্দুর রহিম বাদশা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:45 PM, 15 November 2020

Share

গোবিন্দগঞ্জের প্রকৃতিতে আস্তে আস্তে বইতে শুরু করেছে শীতের হাওয়া। আর শীত মানেই ব্যাডমিন্টন খেলা।শীত আসলেই গোবিন্দগঞ্জ শহরের প্রতিটি অলিতে গলিতে ব্যাডমিন্টন খেলার ধুম পড়ে।সম্প্রতি শীত অনুভূত হওয়ায় এবারও গোবিন্দগঞ্জ শহরে ব্যাড মিন্টন খেলার ধূম পড়েছে।এ খেলায় সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি অংশ নিচ্ছে তরুণরা। তালিকা থেকে বাদ পড়ছেনা না মধ্যবয়সী ও মেয়েরাও। তারাও শীতের পরশ বুলানো কুয়াশায় মত্ত হচ্ছে ব্যাডমিন্টন খেলায়।

গোবিন্দগঞ্জ শহরের অলি গলিতে শুরু হয়েছে ব্যাডমিন্টনের মাঠ সাজানোর প্রস্তুতি।প্রস্তুত করা হয়েছে লাইট, নেট, কক, স্ট্যান্ড।রবিবার
(১৫-নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বন্দর এলাকা ঘুরে দেখা যায় কিশোরেরা ব্যাডমিন্টন খেলতে মত্তো, তারা টানা খেলতে খেলতে শরীর ঘেমে অস্থির তবুও তারা উপভোগ করছে খেলাটি।

গোবিন্দগঞ্জের মানুষ ক্রিকেট ও ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত থাকলেও ব্যাডমিন্টন নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা কোনো অংশেই কম নয়।তবে উৎসাহ উদ্দিপনার এ খেলাটি গোবিন্দগঞ্জে একটি পরিবারে শোক বয়ে নিয়ে এসেছে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ব্যাডমিন্টন খেলার লাইট লাগাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পষ্টে রাতুল(১৩) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পান্থা পাড়া এলাকার মাসুম মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, রাতুল তার বন্ধুদের সাথে(১৪-নভেম্বর) শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পার্শ্বে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন ফাঁকা মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বিদ্যুতের লাইট লাগাতে যায়। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পষ্টে রাতুল বিদ্যুৎতের তারের সাথে আটকে যায়। পরে খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থনে পৌছে রাতুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।গোবিন্দগঞ্জ ফায়ায় সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ আরিফ আনোয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ সচেতন মহল মনে করেন যেহেতু গোবিন্দগঞ্জের কিশোর-যুবকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ব্যাড মিন্টন খেলাটি খেলেন এবং উপভোগ করেন সেহেতু তাদেরকে বারণ করে খেলাটি থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়।সুতরাং সকল অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে যাতে তারা এখেলার মাঠ প্রস্তুত করতে বিদ্যুৎতের লাইট বহণ ও সংযোগ দিতে গিয়ে রাতুলের মতো বিপদগ্রস্ত না হয়।এজন্য অভিভাবকদেরকেই দায়িত্ব নিয়ে লাইট ও সরঞ্জাম প্রস্তুতে সহায়তা করতে হবে অন্যথায় কোমলমতি কিশোররা এসকল বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন :