You are here
Home > বাংলাদেশ > বরিশালে ২২ দিনে ৬৫১ জেলেকে জেল-জরিমানা।

বরিশালে ২২ দিনে ৬৫১ জেলেকে জেল-জরিমানা।

Share

আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে মোট ১৫ থেকে ১৭ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার মূল সময়। এ সময় সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ নদীতে ছুটে আসে। এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময় ইলিশকে স্বাচ্ছন্দ্যে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকার দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বরিশালের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করেন বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।

গত ১৪ অক্টোবর থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) পর্যন্ত ২২ দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অপরাধে বরিশালে ৬৫১ জেলেকে জেল-জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে ৫৪৬ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ১০৫ জেলের জরিমানা করা হয়। অভিযানে ৩২ লক্ষ মিটার জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিম খানা, মাদরাসায় বিতরণ করা হয়। অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।

বিগত ২২ দিনে জেলেদের সার্বিক সহযোগিতার ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু সাঈদ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ভোর নিউজ প্রতিনিধিকে জানান, অভিযান চলাকালীন সময়ে সরকারের মানবিক সহায়তার আওতায় জেলার ৪৭ হাজার জেলে পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলেদের এই ২২ দিন কর্মসংস্থান বন্ধ থাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন জেলেদের সাথে তারা নিয়মিত আলোচনা ও সভা করেছেন তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার জন্য।

অভিযানের বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান ভোর নিউজের প্রতিনিধিকে বলেন, ইলিশ মাছ বাংলাদেশের সম্পদ। ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার ঘোষিত সময়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা খুবই জরুরি। এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে প্রতিদিন জেলার সর্বত্র দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করেছেন। ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকলে জেলেরা বেকার হয়ে পড়েন। তাই জেলেদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু জেলে ইলিশ শিকারের চেষ্টা করছেন। তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে‌। মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে তিনি বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।

Top