সাতক্ষীরা জজকোর্টের পিপি’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ: বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ।

মোঃ আলমগীর হুসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:58 PM, 03 November 2020

Share

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে আইনজীবীদের একটি অংশ।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জজ কোর্টের শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসুচি শেষে এই কুশপুত্তলিকা দাহ করে তারা।

সমাবেশে সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগের নামে ঘুষ গ্রহণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবীকে পুরস্কৃত করে পূণরায় অতিরিক্ত পিপি নিয়োগ, পরীক্ষীত নেতা কর্মীদের বঞ্চিত করে স্বাধীনতা বিরোধীদের সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ ও ঘুষখোর আখ্যায়িত করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং সাবেক অতিরিক্ত পিপি এড. আজহার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক পিপি এড. ওসমান গণি, এড. সঞ্জয় রায় চৌধুরী, এড. সাহেদুজ্জামান সাহেদ, সাবেক অতিরিক্ত জিপি এড. নওশেল আলী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান জজ কোর্টের পিপি এড. আব্দুল লতিফ ভারতীয় গরুর খাটাল ব্যবসার সাথে সোনা পাচার করে শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন। আব্দুল লতিফ ওরফে খাটাল লতিফ এপিপি নিয়োগের নাম করে ১৫ জন আইনজীবীর কাছ থেকে মাথাপিছু ৭০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। অভিযোগ তিনি মামলা পরিচালনার সময় আসামীপক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে থাকেন।

বিডিআর এ চাকুরি করাকালিন তিনি দুর্নীতির দায়ে বহিস্কৃত হন। বিডিআর এ চাকুরি করা কালিন যে স্নাতক সনদ সংগ্রহ করেছেন তা যথাযথ নয়। ওই সনদ যাঁচাই এর জন্য কয়েকজন আইনজীবী আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

২০০২ সালে কলারোয়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আইনজীবী এড. জিল্লুর রহমান আসামীপক্ষে অবস্থান নেওয়ার তৎকালিন পিপি এড. ওসমান গণি তাকে বহিষ্কার করলেও বর্তমান পিপি তাকে নতুন করে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুরস্কৃত করেছেন।

তার বিরুদ্ধে বহু নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ রয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ ছাড়া ঘুষ দুর্নীতির বিনিময়ে তিনি স্বাধীনতা বিরোধী আইনজীবীদের পিপিশিপে আনার ব্যবস্থা করেছেন। এসব নিয়ে আইনজীবীরা প্রতিবাদ ও প্রধানমন্ত্রি বরাবর স্মারকলিপি দিলে তাদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অবিলম্বে পিপিশিপ থেকে পদত্যাগ না করলে বা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার না করলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ অনশন কর্মসুচিসহ বৃহত্তর কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবে। এরপর আব্দুল লতিফের কুশপুত্তলিকায় দাহ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :