ফেসবুক পোষ্টকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় হিন্দু বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ।

নাফিউ জামান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  11:48 AM, 02 November 2020

Share

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুটি বাড়ির ৪টি ঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার বাঙ্গরা থানার ৪নং পূর্ব ধইর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।এতে সেখানকার হিন্দু পরিবার গুলোর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওই গ্রামে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আজিমুল আহসান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কোরবানপুর গ্রামের শিক্ষক শংকর দেবনাথ এবং আন্দিকুট গ্রামের অনিক ভৌমিক নামের দুই ব্যক্তি তাদের ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সে প্রদর্শিত ব্যঙ্গচিত্রকে সমর্থন করে মন্তব্য করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হলে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শনিবার রাতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এই ঘটনার রেশ ধরে রবিবার বিকালে কোরবানপুরের স্থানীয় একদল বাসিন্দা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বনকুমার শিবের অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় এবং ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

এদিকে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যায় স্থানীয় বাঙ্গরা থানার পুলিশ। এরপর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর কোরবানপুর ও আন্দিকোট গ্রামে ৪ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক শংকর তাদের ফেসবুক আইডি থেকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে সমর্থন করে পোস্ট ও মন্তব্য করেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, থানা পুলিশ মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষক শংকর দেবনাথ ও আন্দিকোট গ্রামের অনিক ভৌমিককে গ্রেফতার করেছে। ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এরপর ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা অনভিপ্রেত, এ ঘটনায় আরেকটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। ভাঙচুরের ভিডিও রয়েছে, তা দেখে এবং তদন্ত করে অপরাধী শনাক্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে আমি এবং পুলিশ সুপার দুজনেই ঘটনাস্থলে এসেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :