খলিফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)’র ঈদ নিয়ে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা!

ইসলামীক ডেস্ক।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  03:25 AM, 19 October 2020

Share

ঈদের জামাতের সময় বয়ে যায়। কিন্তু যিনি ইমামের দায়িত্ব পালন করবেন সেই আমিরুল মু’মিনিন হযরত ওমর (রাঃ) তখনও আসেননি ঈদগাহে। সকলে চিন্তিত, বিচলিত! কোথায় গেলেন খলিফা? অন্বেষণে বের হলেন কয়েকজন। খুঁজতে খুঁজতে এক পর্যায়ে তাকে পাওয়া গেল ক্রন্দনরত অবস্থায় নিজ গৃহের অন্তরীণ এক কক্ষে। দেখা গেল তিনি আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে অঝোর ধারায় চোখের পানি ফেলছেন। মুনাজাত শেষ হলে প্রশ্ন করা হলো, হে আমিরুল মু’মিনিন! খলিফাতুল মুসলিমিন! আজ ঈদের দিন, খুশির দিন। অথচ, আপনি কাঁদছেন? হযরত ওমর (রাঃ) কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, আজতো খুশি ঐ ব্যক্তির জন্য যে নিশ্চিত হয়েছে তার বিগত তিরিশটি রোযা, তারাবীহ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলিল আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে। আমিতো নিশ্চিত হতে পারিনি!

একটু ভাবুন, এই ছিলো জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবী হযরত ওমর ফারুক (রাঃ)’র ঈদ আনন্দ! এ জন্যই ইসলামী শরীয়ত ঘোষণা করেছে, তার জন্য ঈদ নয়, যে উপযুক্ত কারণ ছাড়া রমযানের রোযা পরিত্যাগ করেছে। তার জন্য ঈদ নয় যে মাসভর পাপাচারে লিপ্ত থেকেছে। বরং ঈদ তার জন্য, যে সিয়াম সাধনায় রত থেকে তাকওয়ার গুণ অর্জন করেছে। কুরআনের জ্ঞানে নিজেকে উদ্ভাসিত করে জীবনের প্রত্যেকটি দিকে পরিবর্তন আনায়ন করেছে। আর আজ সমাজের চিত্র হলো, ঈদের আনন্দে তারাই বিভোর, যারা সারা রমযানে একটি রোযাও রাখেনি আর কুরআনের ধারে কাছেও যায়নি।

অর্ধ পৃথিবীর এই খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) ঈদে নিজের সন্তানদের নতুন জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারেননি। ঈদের পূর্ব দিনে তাঁর স্ত্রী এসে বললেন, ‘আমাদের জন্য ঈদের কাপড় না হলেও চলবে। কিন্তু ছোট্ট বাচ্চাটি ঈদের জামার জন্য কাঁদছে।’ হযরত ওমর বললেন, ‘আমারতো জামা কেনার সামর্থ্য নেই।’ তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে নিয়োজিত সাহাবী হযরত আবু উবায়দা (রাঃ) এর নিকট অগ্রীম এক মাসের ভাতা চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করলেন। মুসলিম জাহানের খলিফার এমন অসহায়ত্বের সংবাদ সম্বলিত চিঠি পেয়ে হযরত আবু উবায়দা কেঁদে ফেললেন। তিনি পত্রবাহককে ভাতা না দিয়ে চিঠির প্রতিত্তোরে লিখলেন, আমীরুল মু’মিনিন, আমি আপনাকে অগ্রীম ভাতা দিতে পারি। তবে আপনাকে দু’টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।

প্রথমত: আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত জীবিত থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

দ্বিতীয়ত : যদি জীবিত থাকেন তাহলে মুসলমানরা যে আপনাকে আগামী মাস পর্যন্ত তাদের শাসক রূপে মনোনীত রাখবে এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

ভাতার পরিবর্তে কোষাধ্যক্ষের এ পত্র পেয়ে খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) নির্বাক! হতভম্ব। তিনি এতো বেশী ক্রন্দন করলেন যে, তাঁর দাঁড়ি মুবারক অশ্রুতে ভিজে গেল।

কী বিস্ময়কর শাসক! কী মহান রাষ্ট্রপতি! যিনি অভাবের তাড়নায় নিজ সন্তানকে ঈদের জামা পর্যন্ত কিনে দিতে পারলেন না।

আপনার মতামত লিখুন :