You are here
Home > বাংলাদেশ > বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু।

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের অভিযান শুরু।

Share

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান ৪র্থ এবং মৎস্য চাষে ৫ম। সারাদেশের প্রায় ১৫ লাখ নারীসহ ১ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ মৎস্য খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়োজিত থেকে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। আমাদের প্রাণিজ আমিষের শতকরা ৬০ ভাগের যোগান দেয় মৎস্যখাত। এটা মৎস্য চাষি, মৎস্য বিজ্ঞানী এবং বর্তমান মৎস্যবান্ধব সরকারের জন্য এক বিরাট অর্জন ও গৌরবের বিষয়। আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে আহরিত ইলিশের ৭৫ শতাংশ হয় বাংলাদেশে। বাকি ২৫ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ মিয়ানমারে, ৫ শতাংশ ভারতে এবং ৫ শতাংশ অন্যান্য দেশে। স্বাদে ও গন্ধে বাংলাদেশের ইলিশের কোনো তুলনা হয় না। এজন্য ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও রয়েছে বাংলাদেশী ইলিশের বিপুল চাহিদা ও সুখ্যাতি। দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। প্রায় ২৫ লাখ লোক ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও এ সংক্রান্ত কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। স্মরণাতীত কাল হতে ইলিশ মাছ উপকূলীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। সুফলভোগীদের অংশ গ্রহণে অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার নিষিদ্ধকরণ, জাটকা সংরক্ষণ, সম্মিলিত বিশেষ অভিযান এবং মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানসহ ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। ওই সময় সমুদ্রের লোনা পানি থেকে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীর মিঠা পানিতে আসে। অনুকূল পরিবেশে বেশি সংখ্যক মা ইলিশ সমুদ্রের লোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে এসেছে ডিম পাড়ার জন্য। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য ১৪ই অক্টোবর থেকে ৪ই নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রজনন মৌসুমে যদি সর্বাধিক সংখ্যক ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে এবং ছোট ইলিশ নির্বিঘ্নে বড় হতে পারে, তা হলেই বাংলাদেশের ছোট-বড় নদীগুলো আবার রূপালী ইলিশে ভরে উঠবে। দেশের ধনী-গরীব সবাই উপভোগ করতে পাববে সুগন্ধী ইলিশের স্বাদ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর (আজ) হতে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। সরকার এই সময়ে মা ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, বিপণন ও মজুদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ প্রেক্ষিতে বরিশালে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে নগরীর ডিসি ঘাটে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। বরিশালের অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরিশাল কৃষিবিদ মোঃ আবু সাইদ, নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএনএস তিস্তা) আবদুল কাইয়ুম, কোস্ট গার্ড লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হাসানাত আরেফিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরিশাল সদর মোঃ মুনিবুর রহমান, ওসি নৌ পুলিশ আবদুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামত, মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাসসহ আরও অনেক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বরিশাল এস এম অজিয়র রহমান এবং অতিথিরা মা ইলিশ রক্ষায় করনীয় বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, আজ ১৪ অক্টোবর থেকে ০৪ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ রক্ষায় ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে ইলিশের সাথে সংশ্লিষ্ট দের সচেতন করতে, এই ২২ দিন বরিশাল জেলায় ইলিশ ধরা, বিক্রয়, সংরক্ষণ, মজুদ, পরিবহন করা থেকে বিরত থাকতে সকলকে অনুরোধ করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরীর পোট রোড এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোঃ হেলাল উদ্দিন এর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা কালে মৎস আড়ৎ, বরফ কল ও কারেন্ট জাল বিক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কথা বলেন। পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

Top