বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে।

বিশেষ প্রতিনিধি।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  01:10 AM, 13 October 2020

Share

রংপুর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান রনির বিরুদ্ধে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্নস্থানে নিয়ে ধর্ষণের শিকার এক শিক্ষিকা রংপুর মেট্রো কোতয়ালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। শনিবার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানায় এ মামলা করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মেহেদি হাসান সিদ্দিকী রনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাজিতপুর ফতেপুর গ্রামের আবু বক্করের পুত্র। এই মামলায় রনি ও এই অপকর্মে তার সহযোগী রনজিৎ ঘোস তাপস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক, হামিদুল ইসলাম জিয়া এবং বেলালকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

ধর্ষণের শিকার জানান, রনির সাথে পরিচয় হওয়ার পর বিভিন্ন সময় আমাকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন রকম প্রস্তাব দিতেন এবং একপর্যায়ে রনি আমার সাথে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং আমাকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যান। রনি আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে আমি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেই। রনি তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে তারা আমাকে নীলফামারী জেলার বন্ধু সজল কুমারের বাড়িতে নিয়ে যান এবং সেখানে ভুয়া কাজী দ্বারা আমার সাথে রনির বিয়ের কাবিননামা সম্পাদন করে। সজলের বাড়িতেই নাটকীয় বাসরঘর সাজিয়ে রনি আমাকে রাতভর ধর্ষণ করে। এর পর রনি আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় শুধু বেড়াতে নিয়ে যান সহবাস করার জন্যই। এমনকি পাশের দেশ ভারতে নিয়ে যান এবং সেখানেও আমার সঙ্গে সহবাস করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে কিছু দিন যাওয়ার পর আমি রনির কাছে স্ত্রীর মর্যাদার দাবি করে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করলে রনি আমাকে বলে তার ছাত্র রাজনীতির পদপদবি ও মর্যাদার কারণে আরো কিছু দিন দেরি করিতে হবে। রনি আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে।

শিক্ষিকা অভিযোগে আরও জানান, গত ৫ জুন রাতে নগরীর কেরানী পাড়াস্থ ভাড়া বাসায় রনি আসে এবং আমার সাথে রাত্রী যাপন করে। সে রাতে আমি তাকে তার বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করি। সে দলীয় ব্যাপারে ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে আমাকে জানান। আমি রনিকে টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করলে রনি আমাকে তার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না করার জন্য হুমকি প্রদান করেন এবং সে বলে তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নাই বা অতীতেই ছিলো না বলে জানায়।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রশিদ জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :