শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় জয়পুরহাটে ৫ জনের মৃত্যুদন্ড।

সোহেল রানা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  04:36 PM, 12 October 2020

Share

শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন জয়পুরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রায়ব্যুনালের বিচারক মো. রুস্তম আলী। মঙ্গলবার দুপুর তিনি এ রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে বিচারক মামলার পলাতক এক আসামীর ৫ লাখ সহ অন্যদের ৩ লাখ টাকা করে জড়িমানারও আদেশ দিয়েছেন। আদালতের এ রায় পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদি নিহত শিশুর বাবা পরেশ চন্দ্র।

আদালত সুত্রে জানা গেছে গত ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দুপুরে পাঁচবিবি উপজেলার রশিদপুর মোলান গ্রামের পরেশ চন্দ্রের আড়াই বছরের শিশুকন্যা আরাধা রাণী বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির বাবা পরেশ চন্দ্র ওই দিনই পাঁচবিবি থানায় অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা করেন।

মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিশুটিকে ২২ ডিসেম্বর দুপুরে অপহরণের পর মুখ ও হাত স্কচ টেপ দিয়ে বেঁধে আসামী বিরেশ চন্দ্রের বাড়িতে বাক্সবন্দি করে রাখা হয়। পরে সেখানেই শিশুটি মারা গেলে ২৪ ডিসেম্বর গভীর রাতে শিশুটির মরদেহ বাড়ির অদুরে একটি পুকুর পাড়ে ঢিলের নীচে চাপা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

২৫ ডিসেম্বর ভোরে পুলিশ শিশুটির মরদেহ বাড়ির অদুরে মোলান বাজারের পাশে একটি পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার করে।আসামী ৫ জনের মধ্যে উত্তম কুমার নামের একজন পলাতক থাকলেও অন্য চারজন জয়পুরহাট জেলা কারাগারে আছেন।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আজ মঙ্গলবার রায় প্রদান করেন। রায়ে ৫ জনকেই অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদন্ডাদেশ সহ পলাতক আসামী উত্তম কুমারের ৫ লাখ এবং অন্য প্রত্যেক আসামীর ৩ লাখ টাকা করে জড়িমানা করেন।

সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌসুলি ফিরোজা চৌধুরী,নন্দ কিশোর আগরওয়ালা ও মোস্তাফিজুর রহমান। আর আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন রফিকুল ইসলাম, আফজাল হোসেন, হেনা কবির, শহিদলু ইসলাম ও আবু কাউছার।

আপনার মতামত লিখুন :