You are here
Home > বাংলাদেশ > রাজশাহীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মা গার্ডেনে ফিরেছে প্রান চাঞ্চল্যতা।

রাজশাহীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র পদ্মা গার্ডেনে ফিরেছে প্রান চাঞ্চল্যতা।

Share

জমানো টাকা গুলো শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই, এবার কাজে না গেলে পেট চালানো অসম্ভব । স্ত্রী, ১ মেয়ে, ২ ছেলে সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টেই দিন পার করতে হচ্ছিলো। ত্রানের আশায় থাকলেও ত্রান না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।

বলছিলাম রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকার টি-বাঁধের পেয়ারা বিক্রেতা সালাউদ্দীনের কথা।

মার্চের ১৯ তারিখ থেকে সকল বিনোদন কেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসন। তারপর থেকেই বিপাকে পড়তে হয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোর হকারদের।

২৬ মার্চ সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন সরকার, ফলে সকলেই কর্মস্থল থেকে ফিরে যান নিজ বাড়িতে।

করোনার প্রকোপে মে মাসের ১৮ তারিখে রাজশাহী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করলে প্রাণ শূন্য হয়ে পরে নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

তবে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমায় ১ আগস্ট থেকে খুলে দেয়া হয় নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ধীরে ধীরে প্রান চাঞ্চল্যতা ফিরতে থাকে এই কেন্দ্র গুলোতে।

দর্শনার্থীদের পদচারণায় আবারো মুখরিত হতে থাকে টি-বাঁধসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র।

করোনার আতঙ্ক কমে যাওয়ায় সারাদিনের কর্ম ব্যাস্ততা শেষে বিকেলে বা সন্ধ্যার পরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সান্নিধ্যে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে রাজশাহীর মানুষ ছুটে আসছেন শ্রীরামপুরের এই টি-বাঁধে। বন্ধু বা পরিবারকে নিয়ে মেতে উঠছেন হৈ-হুল্লোড় আর আড্ডায়।

রাজশাহীর মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এই নদী।

অনেকেই জীবিকার চাহিদায় এখানে বিভিন্ন পন্যের পসড়া সাজিয়ে বসেছেন। কেও বিক্রি করছেন বাচ্চাদের খেলনা, কেও বিভিন্ন ধরনের আচার, পেয়ারা, আবার কেওবা বিক্রি করছেন চটপটি-ফুচকা।

জীবিকার চাকা আবারো সচল হয় সালাউদ্দীনের, কথা বলে জানা যায় করোনা পরিস্থিতিতে কোনো উপার্জন ছিলোনা। তবে টি-বাঁধ খুলে দেয়ার পর থেকে এখন সারাদিনে এক হাজার থেকে বারো’শ টাকার পেয়ারা বিক্রি করেন তিনি। যেখানে লকডাউনের আগে প্রতিদিন পেয়ারা বিক্রি করেছেন তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।

কারণ জানতে চাইলে সালাউদ্দীন বলেন, আগে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারাদিনই এখানে ঘুরতে আসতো, এখন সব কিছু বন্ধ থাকায় শুধুমাত্র স্থানীয় দর্শনার্থীরা তাদের বন্ধু বা পরিবারকে নিয়ে আসছেন ঘুরতে।

নৌকার মাঝি তুহিন বলেন, করোনার কারণে তার অবস্থাও ছিলো একই রকম। টি-বাঁধ খোলার পরে আবারো উপার্জন করতে পারছেন।

দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখে বোঝা যায় করোনার প্রকোপ আগের থেকে কমেছে তাই কিছুটা সস্থিতেই রয়েছেন তারা।

তেমনই এক দর্শনার্থী আব্দুর রশিদ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন লকডাউনে বাসায় বসে থেকে সময় কাটছিলোনা তার। অতিষ্ঠ হয়ে পরেছিলেন তিনি, তাই বন্ধুর সাথে এসেছেন ঘুরতে ।

আজমির শেখ নামক আরেকজন জানান, সারাদিন অফিস শেষে এখানে আসেন শরীর-মনের ক্লান্তি দূর করতে। প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে।

টি-বাঁধ খুলে দেওয়ায় এখন স্থানীয় দর্শনার্থীরা বন্ধু বা পরিবারকে নিয়ে মাঝে মাঝেই আসছেন এইখানে। ফুরফুরে মেজাজে অবসর সময় কাটাচ্ছেন প্রাকৃতির সান্নিধ্যে। অতঃপর দিন শেষে শারীরক ও মানসিক প্রশান্তি নিয়ে নতুন উদ্যমে আগামী দিনটি শুরুর প্রত্যয় নিয়ে ফিরছেন নিজ নিজ বাসায়।

 

 

Top