অস্ত্র হাতে সাংসদের ছবি ভাইরাল

Hasan Mehedi
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  10:29 AM, 10 October 2020

Share

পিস্তল হাতে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়াকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো বগুড়া (গাবতলী-শাজাহানপুর) শহরে। নতুন ক্রয় করা পিস্তলের সাথে হাস্যোজ্জ্বোল ছবিটি ঘিরে ইতিমধ্যে বগুড়া শহর এবং গনমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা- সমালোচনা।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে অনেকে এই ছবি নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বলেন, একজন সংসদ কখনোই তার বৈধ বা অবৈধ অস্ত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন না। এটা নিয়ে মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০১৬ এর অনুচ্ছেদ ২৫ এর (ক) তে বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র আত্মরক্ষার জন্য বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, অন্যের ভীতি বা বিরক্তির কারণ হতে পারে, এমনভাবে প্রদর্শন করতে পারবেন না।” এই নির্দেশনা অমান্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনেও বলা হয়েছে।

তবে সাংসদ রেজাউল করিম দাবি করেছেন, নিরাপত্তার জন্যই তিনি অস্ত্র নিয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে রাজধানীর একটি অস্ত্রের দোকান থেকে ৮০ হাজার টাকায় একটি বিদেশি পিস্তল কিনেছেন তিনি। দোকানে বসে পিস্তল নাড়াচাড়া করার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কোনো কর্মী মুঠোফোনে ছবি তুলে তা তাঁদের ফেসবুকে আপলোড দিয়েছেন। তিনি বলেন, লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। তাঁর সঙ্গে থাকা কোনো কর্মী তাঁকে না বলেই ফেসবুকে দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও তাদের কিছু সাংবাদিক এই ছবি ভাইরাল করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

রেজাউল করিম ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসন থেকে ট্রাক প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। নির্বাচনে রেজাউল করিম তাঁর হলফনামায় পেশা সাংবাদিকতা ও ব্যবসায় বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সাংবাদিকতা থেকে তিনি কত টাকা আয় করেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাঁর হলফনামায় এবং আয়কর বিবরণীতে নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। তবে কৃষি ও ব্যবসা থেকে তাঁর আয় উল্লেখ করেছিলেন যথাক্রমে তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা। তাঁর নির্বাচনী খরচ সাড়ে ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নিজের ব্যবসা থেকে আয় ৫০ হাজার টাকা আর তাঁর দুই জামাতার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা এবং দান হিসেবে আরেক জামাতার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এখন তার এসব কর্মকাণ্ড ও আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানান প্রশ্ন। কিভাবে মাত্র দুই বছরে তিনি বাড়ি-গাড়ি ও অস্ত্রের মালিক হলেন জানতে চায় সবাই।

আপনার মতামত লিখুন :