You are here
Home > বাংলাদেশ > কালকিনিতে সোহেল রানা মিঠুর তরুণ, যুবক ও ছাত্রদের সাথে মতবিনিময় সভা।

কালকিনিতে সোহেল রানা মিঠুর তরুণ, যুবক ও ছাত্রদের সাথে মতবিনিময় সভা।

Share

আসন্ন কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকের সন্তান, কালকিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুর আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা।

শনিবার বিকেলে সোহেল রানা মিঠুর নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কালকিনি পৌরসভার প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার তরুণ, ছাত্র ও যুবকদের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন জনপ্রিয় মোটিভেশনাল ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি খায়রুল আলম খোকন বেপারী, আশরাফুল রহমান সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইকবাল মাহামুদ বাবলু সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, খাইরুল হাসান জুয়েল সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাইফুল ইসলাম সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ , সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. হেলাল উদ্দিন সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ , ফয়সাল আহসানউল্লাহ সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, শিহাবউজ্জামান শিহাব সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সোহেল রানা মিঠু। তিনি ছাত্র তরুন ও যুব সমাজের উদ্দেশ্যে কিছু নির্বাচনি ইশতেহার ঘোসনা করেন এবং আগামি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হতে পারলে ইশতেহারকৃত সকল ওয়াদা বাস্তবায়ন করবেন।

(১) তরুণরা যাতে তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে বসেই উপার্জন করতে পারে সে লক্ষ্যে পৌরসভার উদ্যোগে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হবে। এ ডিজিটাল সেন্টারে নিয়মিত শিক্ষকের পাশাপাশি প্রতিমাসে দেশসেরা ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এ ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোগে সফল আইটি উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রতি বছর ক্যারিয়ার সেমিনার করা হবে। পৌরসভা এলাকার কোনো আইটি স্কলারের আইটি সংক্রান্ত যেকোনো নতুন উদ্যোগের আর্থিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতাও করা হবে।

(২)
বেকারদের কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভার উদ্যোগে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হবে। এক্ষেত্রে বিনামূল্যে ছয়মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বেকাররা ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণ করে বেকারত্ব দূর করতে পারবেন।
কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পৌরসভার উদ্যোগে তৈরি করা হবে উদ্যোক্তা কেন্দ্র। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের কৃষি, পশুপালন, মাছ চাষ, দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদেশী ফল চাষসহ নানা ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এতে দেশসেরা সফল উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

(৩)
কালকিনি পৌরসভায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও কেবলমাত্র সঠিক গাইডলাইনের অভাবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা বঞ্চিত হন। অনেকে দারিদ্রতাসহ নানাবিধ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করতে পারেনা। ফলে বুয়েট, মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পৌরসভার খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীরা সঠিক গাইডলাইন পেলে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি হতে পারতো দেশসেরা গবেষক, ডাক্তারা, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার, শিল্পউদ্যোক্তা ।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাকে কাজে লাগানো ও সঠিক ক্যারিয়ার গাইড লাইন দিতে প্রতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার পর তিনমাসব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী তাদের জন্য বুয়েট, মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং টীম গঠন করা হবে। এ টিম বুয়েট, মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ার উপযোগী করে তুলবে। কোনোরকম আর্থিক মূল্যে পরিশোধ ব্যতিত পৌরসভার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে।
আমার স্বপ্ন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর, আগামী পাঁচ বছরে কালকিনি পৌরসভার অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থীকে বুয়েট, মেডিকেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চান্স পাবে। আমরা গর্ব করে যেনো বলতে পারি, শিক্ষাক্ষেত্রে কালকিনি পৌরসভা দেশের অন্য যেকোনো পৌরসভার থেকে অনন্য।

(৪) খেলাধুলার জন্য কালকিনি পৌরসভায় নিজস্ব কোনো মাঠ নেই। স্কুল ও কলেজের মাঠই ভরসা। ক্রীড়া সরঞ্জামের সহজলভ্যতাও নেই। নেই ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষকতাও। ফলে অনেক সম্ভাবনাময়ী ক্রিকেটার, ফুটবলার অকালেই ঝরে যায়। মেয়র নির্বাচিত হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে কালকিনিকে দেশের মধ্যে অনন্য সাধারণ হিসেবে গড়ে তুলতে ফুটবল একাডেমি ও ক্রিকেট একাডেমী গড়ে তোলা হবে।
কালকিনি উপজেলার ক্রীড়ামোদী ও সজ্জ্বন যুবকদের সমন্বয়ে পরিচালনা টীম গঠনের পাশাপাশি থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। আয়োজন করা হবে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের। থাকবে আলাদা মাঠ। পর্যাপ্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি দেশসেরা খেলোয়ারদের প্রশিক্ষক হিসেবে আনা হবে। আমাদের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্রীড়াক্ষেত্রে কালকিনি পৌরসভা একটি বিষ্ময়ের নাম হয়ে ওঠা। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমাদের একাডেমীর তারকরা স্বগর্বে বিচরণ করে কালকিনির নাম উজ্জ্বল করবে।

(৫)তরুণদের বইপ্রেমী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভাজুড়েই চালু করা হবে স্ট্রিট লাইব্রেরি। উন্নত বিশ্বের শহরের আদলে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণস্থানে এ স্ট্রিট লাইব্রেরি তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে যেকোনো পাঠক আর্থিক মূল্যে ছাড়াই তার পছন্দমত বই নিতে পারবেন। নির্দিষ্টসময় শেষে আবার লাইব্রেরিতে বই রেখে যাবেন।
উক্ত সভা পরিচালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা জাহিদ হাসান।

Top