সরাইলে সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ মা’কে হত্যার অভিযোগ ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

এম মনসুর আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:10 PM, 12 October 2020

Spread the love

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সম্পত্তি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ মা ফুলবানু খাতুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ খোদ ফুলবানু খাতুনের ছোট ছেলে মো. গুলো মিয়া ও পুত্র বধূ রুবিনা বেগমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউপির প্রত্যন্ত অঞ্চল জয়ধরকান্দি গ্রামের। জন্মদাতা মাকে হত্যার অভিযোগ এনে ফুলবানুর বড় ছেলে মো. আহছান উল্লাহ বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (সরাইল) আদালতে ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডি পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর একেএম মনিরুজ্জামান রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ফুলবানু খাতুনের মৃত্যু রহস্যের জট খুলতে সিআইডি পুলিশ তৎপর রয়েছে।

মামলার বাদী আহছান উল্লাহ বলেন, আমি এবং গুলো মিয়া একই মায়ের সন্তান; কিন্তু আমাদের বাবা ভিন্ন। সৎ ভাই গুলো মিয়ার কাছে মা ফুলবানু খাতুন (৮০) থাকতেন। গুলো মিয়া ও তার স্ত্রী রুবিনা প্রতারণার মাধ্যমে মা’র কাছ থেকে ধানী জমি ও বসত বাড়ির জায়গা লিখে নেয়। এ নিয়ে মা গ্রামে সালিসি বসান। সর্দাররা জমি ফিরিয়ে দেয়ার রায় দেন; কিন্তু গুলো মিয়া এ রায় অমান্য করে। পরে মা ফুলবানু আদালতে মামলা দায়ের করলে গুলো মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। একসময় গুলো মিয়া মাকে ফুসলিয়ে সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। সম্পত্তি লিখে নিয়ে গুলো ও তার স্ত্রী আমার মাকে ঠিকমতো ভাত কাপড় দিতো না। নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন করতো। একসময় তারা পরিকল্পনা করে মা ফুলবানুকে হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। গত ২৬ আগস্ট আমার মায়ের লাশ হাওরের পানিতে ভেসে উঠে।

তবে অভিযুক্ত গুলো মিয়া বলেন, মা আমার; আমি আমার মাকে মারবো কেন? মা আমাকে খুশি হয়ে সম্পত্তি লিখে দিয়েছিলেন। সৎ ভাই আহছান উল্লাহ ষড়যন্ত্র করে মাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মামলা করিয়েছিলেন। গুলো মিয়া দাবি করেন, মা ফুলবানু খাতুন হত্যাকাণ্ডের শিকার। কেউ পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে হত্যা করে লাশ হাওরে ফেলে আসে। এটা কোনো দূর্ঘটনা নয়; এটা হত্যাকান্ড। এজন্য গুলো মিয়া সৎ ভাই আহছান উল্লাহকে সন্দেহ করে বক্তব্য দেন।

জয়ধরকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন বলেন, গুলো মিয়া এবং আহছান উল্লাহ কেউই তাদের মাকে ঠিকমতো ভরনপোষণ দেননি। তারা তাদের মায়ের প্রতি নির্মম অবিচার করেছেন। ফুলবানু খাতুন হত্যাকাণ্ডের শিকার। হাওরের পানিতে চারদিন ফুলবানুর লাশ ভেসে ছিল। পরে লাশ শনাক্তের পর থানাপুলিশকে খবর দেয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :