কাঁচপুরের গডফাদার ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

বিশেষ প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  08:36 PM, 11 October 2020

Spread the love

ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের আধিপত্য নিয়ে সোরগোল পুরো কাঁচপুর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কাঁচপুর। অঞ্চলটিকে ঘিরে চলছে নানা অপকর্ম এবং জনগণের উপর লাগামহীন অত্যাচারের মত ঘটনা। উক্ত এলাকার প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ওমরের ছত্রছায়ায় এসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বলে দাবী এলাকাবাসীর।

মোশারফ চেয়ারম্যানের রয়েছে একাধিক চক্র। যাদের মাধ্যমে তিনি ইলিগ্যাল কাজ গুলো করিয়ে নেন বলে জানা যায়। একাধিক সূত্রে জানা যায়, তিনি তার এত্র এলাকায় ভূমি দখল, মাদক, ছিনতাই ও নানা অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে শেল্টার দেন। মোশারফ হোসেনের সিন্ডিকেটে কাজ করেন, বাবুল ওমর, ফারুক ওমর, জিয়া ও মোমেন। একেক জনের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও।

মোশারফ হোসেন ওমর সম্পর্কে সরেজমিনে জানা যায়, ক্ষমতার রাজ্যে জাগরিত আরেক নাম কাঁচপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর। বিশাল বলয় তৈরি করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গডফাদার হয়ে যান তিনি। শেল্টারদাতা হয়ে প্রশয় দিয়ে থাকেন এলাকার ক্যাডার বাহিনীদের। থানায় একাধিক মামলা রুজু হয়েছে তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবস্থাতেই। স্থানীয় জনগন কোনো এক অজানা কারণে, কথা বলতে রাজি হয় নি তার সম্পর্কে কিছু বলার জন্য। চুপ থাকাই যেনো শ্রেয় এমন মনোভাব পোষণ করেন তারা। বাড়ি রয়েছে ৭তলা ১টি, ৫টি ৬তলা বাড়ি, ৩ বিঘার উপর জমি নিয়ে করা হয়েছে ফার্ম হাউস, ঢাকায় আছে আরোও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, তেল ও সিএনজির পাম্প রয়েছে ২টি এবং আরোও রয়েছে প্রোডাকশন হাউস। চেয়ারম্যান হওয়ার পূর্বে নিজস্ব বাড়ি ছাড়া, ছিলো না এমনসব বিলাসবহুল জিনিসপত্র। এতোসব কারবার নিয়ে হতবাক এলাকাবাসীও৷

তার ভাই ফারুক ওমর- সোনারগাঁ থানার বিএনপির প্রভাবশালী নেতা বিএনপির সাবেক সংসাদ পদপ্রার্থী ওয়ালিওর রহমান আপেলর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে আপেলের সাথে একাধিক ছবি। বহিরাগত হয়েও বর্তমান কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ ওমর আপন ভাইয়ের প্রভাবে জায়গা করে নেন শ্রমিক লীগে। আরোও জানা যায়, তার আরেক আপন ভাই বাবুল ওমর বাবু সম্পর্কে, যুবলীগ নেতা ও সোনারগাঁও উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবু ওরফে চাঁদাবাজ নামে খ্যাত। ফুটপাত থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। চাঁদা উঠিয়ে শূন্য থেকে বিশাল সম্পত্তির মালিক বনে যান তিনি। কাঁচপুরে রয়েছে ৬ তলা দুটি বাড়ি, বিশাল এক গরুর খামার। ব্যবহার করেন টয়োটা কোম্পানির বিলাসবহুল গাড়ি হ্যারিয়ার এবং স্কোয়ার। সিনেমা রাজ্যেরমত হঠাৎ করে লটারী পেয়ে যান যেনো ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর।

মোশারফ ওমর, বাবুল ওমর ও ফারুক ওমর সিন্ডিকেটের সক্রিয় আরো দুইজন হলেন, জিয়া ও মোমেন। জিয়া ওরফে ফর্মা জিয়া ও মোমেনের ছত্রছায়ায় চলে কিশোরগ্যাং। কাঁচপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত ছিনতাই, চুরি, মাদক চোরাচালানের সাথে রয়েছে তাদের সুনিপুণ সম্পর্ক। গত, ১ অক্টোবর বন্দর উপজেলার, মদনপুর ইউনিয়নে বাইক ছিনতাইয়ের সময় এলাকাবাসীর নিকট হাতেনাতে ধরা পরে দুই ছিনতাইকারী। যারা জবানবন্দী দেয়, উভয়েই ফর্মা জিয়া ও মোমেনের সহচর হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, তাদের পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। জবানবন্দীর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কাঁচপুর এলাকার স্থানীয় একজন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ মোশারফ ওমরের আগে এমন প্রতিপত্তি ছিলো না হঠাৎ, নির্বাচনে জয় লাভের পর তিনি নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন এলাকায় এবং বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হয়ে যান। আমারও হতবাক এই বিষয়ে। ভূমি দখল করে নেন জোর পূর্বক। এমন একাধিক ভুক্তভোগী আছে এলাকায়। কিন্তু, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই কারোও।’

এলাকাবাসীর দাবী, একাধিকবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তাদের অপকর্মের চিত্র আসলেও কেনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাই, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং দ্রুত আইনের আওতায় যেনো তাদের আনা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :