দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত।

মনির হোসেন রাসেল, আন্তর্জাতিক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  02:15 AM, 22 August 2020

Spread the love

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার রাজবল্লভপুর গ্রামের “তানভীর আহামেদ মুকুল” নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নিহত মুকুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

এলাকাবাসী ও স্বজনেরা জানান, স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্যে কসবা উপজেলার রাজবল্লভপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাঈমুর হক মাস্টারের ছোট ছেলে তানভীর আহামেদ মুকুল দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। পরে ২০১৩ সনে প্রথম দফায় দেশে ফিরে বিয়ে করেন তানভীর। বর্তমানে তার দুটি কন্যা শিশু সন্তান মাইশা (৭) ও তাইবা (৩) রয়েছে। সর্বশেষ তানভীর দেশে আসেন ২০১৬ সালে। এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্যরাইটিজ ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে গতকাল বৃহষ্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে তানভীরের ভগ্নিপতির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের খবর পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকেই গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর শোনার পর থেকে কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নিহত তানভীরের স্ত্রী “উম্মে ফারজানা আক্তার।”
ফারজানা জানান, “খবর পাওয়ার পর থেকে স্বামীকে দেখার জন্যে তার বুক ফেঁটে যাচ্ছে। যেকোনো মূল্যে স্বামীর লাশ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।”

নিহতের বড় ভাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া বেসরকারি একটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: ইকবাল হোসেন বলেন, “গতকাল দুপুরে ঘটনা শোনার পর থেকে পরিবারে নাওয়া খাওয়া বন্ধ। আমাদের তিন ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে তানভীর ছিল সবার ছোট। আর ছোট হওয়ার কারণে সে ছিল সবার আদরের। দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয়দের হাতে তাকে এভাবে জীবন দিতে হবে, এটা কখনো ভাবিনি। আমি আমার ভাইয়ের লাশ দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

মুকুলে স্ত্রী সহ পরিবারের সকলের দাবি, সরকারিভাবে যেন দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয় এই রেমিটেন্স যোদ্ধার মরদেহ।

আপনার মতামত লিখুন :